“বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানীর রাহিম”

সংবিধান

সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ, হুলহুলিয়া৷

গ্রাম ও পোস্ট: হুলহুলিয়া, থানা: সিংড়া, জেলা: নাটোর, বাংলাদেশ৷

 

হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ এবং অন্যান্য সকল কমিটি পরিচালনার জন্য গ্রামীণ সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত আইনবিধিমালা প্রণয়ন করা হইল৷ সন ১৫-০৭-৯৯ ইং৷

১. ২৩ সদস্য বিশিষ্ট হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ গঠন হইবে৷

 

২. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সহ-চেয়ারম্যান গঠন হওয়ার পর চেয়ারম্যান সাহেব গ্রমের প্রত্যেক পাড়া ভিত্তিক সদস্য মনোনয়নের জন্য প্রত্যেক পাড়ার উপর দায়িত্ব প্রদান করিবেন৷ প্রকাশ থাকে যে, চেয়ারম্যান ও সহ-চেয়ারম্যান যে পাড়ার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, সেই পাড়ার ধার্য কোটার মধ্যে উনি বিবেচিত হইবেন৷ অবশ্যই তিনদিনের মধ্যে সকল পাড়ার সদস্য তালিকা চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করিতে হইবে৷

৩. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পূর্ণাঙ্গ গঠন হওয়ার পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেব পরিষদের সকল সদস্যকে নোটিশ দ্বারা একটি দিন ধার্য্য করিয়া শপথ অনুষ্ঠান পাঠ করাইবেন৷

০৪. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব পরিষদ সদস্য ও গ্রামের সকল ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পরিষদের পাঁচজন উপদেষ্টা ও একজন কনভেনার নির্বাচিত করিবেন৷

০৫. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত দিন পূর্বে গ্রামবাসীকে অবগতির মাধ্যমে গ্রামীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও চেয়ারম্যান, সহ-চেয়ারম্যান গঠনের আলোচনা ও প্রার্থীর নাম অন্তর্ভূক্ত করিতে হইবে৷ প্রস্তাবকারীকে অবশ্যই প্রার্থীর সাথে আলাপ করিয়া তাহার সম্মতিক্রমে নাম প্রস্তাব করিতে হইবে৷ কোন পদে একক প্রার্থী হইলে নির্বাচন কমিশন তাহাকে নির্বাচিত ঘোষণা করিবেন৷ নির্বাচন কমিশনের সদস্য কোন পদে প্রতিযোগী হইতে পারিবেন না৷

০৬. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সাত দিনের মধ্যে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাহেবকে তাহার দায়িত্ব পাওয়ার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

০৭. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ ও গ্রামীণ অন্যান্য সকল বিভাগ সমূহের কার্যকালের মেয়াদ দুই বৎসর কাল স্থায়ী থাকিবে৷

০৮. গ্রামীণ সকল উন্নয়ন বিভাগ সমূহের উপরে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব প্রয়োজনীয় উপদেশ নির্দেশ দিতে পারিবেন৷ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গঠনমূলক যে কোন পদক্ষেপ লইতে পারিবেন৷ প্রকাশ থাকে যে, সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেবের অনুরোধে সহযোগিতা করিবার জন্য পাঁচজন উপদেষ্টা যাহার বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিষদকে সহায়তা করিবেন এবং তাহাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে৷

০৯. দুই বছর মেয়াদকালের মধ্যে কোন কমিটিকে বাতিল করা যাইবে না৷ তবে বিশেষ কারণ দর্শাইয়া সদস্য পদ পরিবর্তন করিতে পারিবে৷

১০. গ্রামীণ সকল বিচার সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের বিভাগের ফয়সালা অধীন থাকিবে৷ বিচার বিভাগের ফয়সালায় তৃপ্তি লাভ করিতে না পারিলে বাদী ও বিবাদী উভয়ই নিজ নিজ প্রয়োজনের তাগিদে মহামান্য কোর্টের আশ্রয় লইতে পারিবেন৷ প্রাকাশ থাকে যে, বাদী ও বিবাদি ১৫ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে মহামান্য কোর্টের আশ্রয় না লইলে সামাজিক বিচার বিভাগের ফয়সালা চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে ও ইহা কার্যকরী করিতে হইবে৷ যে কোন বাদীকে বিচারের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের নিকটে পঞ্চাশ টাকা ফি দাখিল পূর্বক লিখিত আর্জি দাখিল করিতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, বাহির গ্রামের বিচারের জন্য একশত টাকা ফি দিতে হইবে৷ নালিশী ফি ফেরত পাইবে না৷

১১. চেয়ারম্যান সাহেব বিচার বিভাগের জন্য কেস রেজিষ্ট্রার, নোটিশ বই ক্যাশ বই এবং রায়ের জন্য রেজিষ্ট্রার রেজুল্যাশন বই অবশ্যই পরিচালনা করিবেন৷

১২. বিচার বিভাগ প্রধান লিখিত ভাবে রায় দিবেন কিন্তু বাদী কিংবা বিবাদীকে রায়ের নকল দিতে পারিবেন না৷ বাদী ও বিবাদীকে অবশ্যই রায়ের দস্তখত করিতে হইবে৷ কোন পক্ষ দস্তখত করিতে অস্বীকৃতি প্রদান করিলে তাহার প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে৷

১৩. কোন ব্যক্তি বিশেষের উপরে গ্রামের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কেহ কোন নালিশ আনয়ন করিলে সেই নালিশের ফি দিতে হইবে না৷ বিচার বিভাগ কমিটি ও গ্রামবাসী উক্ত বিচার করিবেন৷

১৪. কোন আকস্মিক দুর্ঘটনা যথা – নর নারী ঘটিত, রাহাজানি, মারামারি, জুলুম ইত্যাদি মামলা ছাড়া প্রত্যেকটি মামলা ক্রমিক নম্বর অনুসারে বিচার বিভাগের বিচারাধীন থাকিবে৷

১৫. কোন জরুরী বিচার যথা – চুরি নরনারী ঘটিত, রাহাজানি, মারামারি, জুলুম ইত্যাদি সামাজিক বিচার বিভাগের অধীনে তিন দিন থাকিবে৷ উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগ ফয়সালা দিতে না পারিলে বাদী ও বিবাদী মামলা দায়েরের তারিখ হইতে তিন দিন পরে অর্থাৎ চতুর্থ দিনে মহামান্য কোর্টের আশ্রয় লইতে পারিবেন৷

১৬. কোন জরুরী ভিত্তিক মামলায় সামাজিক উন্নয়ন বিচার বিভাগ প্রধান সাহেবের নোটিশ মোতাবেক সকল সদস্যকে উপস্থিত থাকিতে হইবে৷ বিচারের রায় চুড়ান্ত করিতে হইবে৷ রায়ের পর কাহারো কোন প্রকার ওজর আপত্তি থাকিবে না এবং থাকিলেও তাহা অগ্রাহ্য হইবে৷ সন্তোষজনক কারণ দেখাইতে না পারিলে অনুপস্থিত সদস্যকে দণ্ডনীয় হইতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, বিচার বিভাগ প্রধান সাহেবের অনুপস্থিতিতে সহকারী প্রধান সাহেবের সর্বময় ক্ষমতায় ক্ষমতাবান থাকিবেন৷

১৭. নোটিশে বর্ণিত সময় অনুযায়ী সকল সদস্যকে উপস্থিত হইতে হইবে৷ সকল সদস্যকে অবশ্যই সভাপতির অনুমতি নিয়ে স্ব স্ব বক্তব্য পেশ করিবে৷ বিচার বিভাগের বিচার চলাকালীন বিভাগীয় কোন সদস্য বিচার বিভাগ প্রধান সাহেবের বিনা অনুমতিতে বিচার কক্ষ ত্যাগ করিতে পারিবেন না এবং করিলেও দণ্ডনীয় হইবে৷

১৮. গ্রাম্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোন গঠনমূলক কার্যে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেবকে সহযোগিতা করার জন্য গ্রামীন সকল বিভাগকে এবং গ্রামবাসীগণ উপস্থিত থাকিয়া মতামত বিনিময় এবং চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন৷

১৯. বিচার বিভাগের বিচার চলাকালীন গ্রামবাসীদের মধ্যে উৎসুক ব্যক্তি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন কিন্তু অযাচিতভাবে মতামত বিনিময় করিতে পারিবেন না৷

২০. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দের মধ্যে যদি কেহ বাদী কিংবা বিবাদী বা স্বাক্ষী হিসাবে থাকেন তবে তিনি উল্লেখিত মামলার তদারক এবং ফলাফলের রায় দিতে কিংবা বিচারক হিসাবে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না৷ অর্থাৎ তিনি সেই বিচারের সদস্য হিসাবে গণ্য হইবেন না৷

২১. কোন বিশেষ জরুরী বশততঃঅর্থাৎ কোন দুর্ঘটনার বিশেষ কারণ ঘটার সম্ভাবনা ছাড়া কোন মামলার ইনজাংশান দেওয়া যাইবে না৷ উল্লেখিত ইনজাংশান বাদী ও বিবাদী উভয়কে দিতে হইবে এবং অতিসত্বর অর্থাৎ সাত দিনের মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা দিতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, যদি সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কিংবা সহকারী চেয়ারম্যান কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন তবে ৫জন উপদেষ্টা সাহেব বিচার লইতে এবং ইনজাংশান দিতে পারিবেন৷

২২. আইন বিধি এবং নম্বর আওতাধীন ছাড়া অন্যান্য সকল বিচারে, বিচার বিভাগের সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ না করিলে অর্থাত্‍ সদস্য সংখ্যার কোরাম না পুড়িলে বিচার করা যাইবে না৷ কোরাম অর্থে মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের অন্তত নূন্যতমপক্ষে একজন বেশী হইতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, ছুটি নেওয়া সদস্য কোরমের অন্তর্ভূক্ত হইবে৷

২৩. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ এর উপস্থিত সদস্যদের ভোটের সংখ্যা গরিষ্ঠতার উপরে বিচারের রায় নির্ভর করিবে এবং সংখ্যা লঘিষ্ঠতাকে সেই রায় মানিয়া লইতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, জটিলতার সম্ভাবনা দেখা দিলে উক্ত রায় স্থগিত পূর্বক নং আইন বিধির আওতাধীনে হইবে৷

২৪. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ বিভাগের কোন সদস্য নিজ বিভাগের বিচারাধীন কোন মামলা সম্পর্কে বাদী কিংবা বিবাদীকে প্রভাবিত করিতে কিংবা নিজে প্রভাবান্বিত হইতে পারিবেন না৷ যদি প্রমাণিত হয় তবে দণ্ডনীয় হইবে৷

২৫. বাহির গ্রাম হইতে আগত বিচারের গুরুত্বের উপরে চেয়ারম্যান সাহেব অগ্রাধিকার দিবেন৷

২৬. গ্রাববাসী দ্বারা মনোনিত অডিট কমিটিকে প্রত্যেক বিভাগ প্রধান নিজ বিভাগীয় সদস্যবৃন্দ লইয়া বত্‍সরের একবার হিসাব নিকাশ পরিদর্শন করাইবেন৷ সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব অডিট অন্তে প্রত্যেক বিভাগের হিসাব নিকাশ গ্রামবাসীদিগকে অবগত করাইবেন৷

২৭. প্রত্যেক বিভাগ প্রধান নিজ দায়িত্বে বৎসরে দুইবার করে নিজ কমিটির সদস্য লইয়া স্ব স্ব বিভাগের হিসাব নিকাশ করিবেন৷

২৮. সামাজিক বিবাহ নিয়ম অনুসারে গ্রামকে না ডাকিলে সেই বিয়েতে ৩০০/- (তিন শত) টাকা অভিভাবককে গ্রাম সম্মুখে জরিমানা দিতে হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, অসামাজিক কোন বিয়ে সংগঠিত হইলে ছেলে মেয়ে উভয়কে ১০০০/- (এক হাজার) টাকা করিয়া জরিমানা দিতে হইবে৷

২৯. গ্রামের টাকা পয়সার মধ্যে ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা মাত্র সব সময়ই চেয়ারম্যানের নিকট জমা থাকিবে৷ মসজিদ ২০০০/- (দুই হাজার) টাকা গোরস্থান ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা ও দরিদ্র তহবিল ১০০০/- (এক হাজার) টাকা মাত্র সকল দপ্তরের কমিটি প্রধানের নিকট জমা থাকিবে৷ প্রকাশ থাকে যে, সকল দপ্তর প্রধান অডিট শেষে মওজুদ টাকা সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট জমা দিবে৷ সম্পূর্ণ বিভাগের টাকা ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে৷ রেজুল্যাশন অনুযায়ী ব্যাংকে গ্রামের তরফ থেকে একটি একাউন্ট থাকবে, যা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ও উপদেষ্টা পরিষদের কনভেনারসহ উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের ৩ (তিন) জনের স্বাক্ষরে টাকা জমা ও উটানো হইবে৷ সকল দপ্তর থেকে রেজুল্যাশন করে চেয়ারম্যানের নিকট হইতে প্রয়োজনীয় টাকা গ্রহণ করিবেন৷

৩০. উপদেষ্টা পরিষদের কনভেনার ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর দায়িত্ব ব্যতীত কনভেনার হিসাবে বিশেষ কোন ক্ষমতা থাকিবে না৷ তবে উপদেষ্টা্ পরি্ষদ পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালন করিবেন৷

৩১. গ্রামের অবৈধ বিবাহ ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটা প্রথম অবস্থায় সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কিট অবগত করিতে হইবে৷ অর্থাৎ নিজেরা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিবে না৷ চেয়্যাম্যান সাহেব উভয় পক্ষের অভিভাবক ও আত্মীয় স্বজনের নিকট হইতে ২ (দুই) দিনের মধ্যে ফয়সালার জন্য লিখিত অঙ্গীকার পত্র নিবেন৷ ছেলে ও মেয়ের অভিভাবক ও আত্মীয় স্বজন উক্ত সময়ের মধ্যে চুড়ান্ত ফায়সালা না করেন তাহলে চেয়ারম্যান সাহেব গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এর ফায়সালা দিবেন৷ প্রকাশ থাকে যে ছেলে ও মেয়ে পক্ষ লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ছেলে ও মেয়েকে নিজস্ব হেফাজতে রাখিতে পারিবেন৷ অবশ্য অমান্য করিলে পরবর্তী বিচারের সময় পূর্বের লিখিত আরজি অনুযায়ী হাজির করিতে হইবে৷

৩২. সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হইলে চেয়ারম্যান গঠনের সময় যদি কেহ কাহারও নাম প্রস্তব করিতে চায় তাহা হইলে প্রস্তাবকারীকে অবশ্যই প্রার্থীর সহিত আলোচনা সাপেক্ষে প্রস্তাব করিতে হইবে৷ প্রার্থী একের অধিক হইলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদতি ভোটার তালিকা অনুযায়ী শুধুমাত্র পুরুষ ভোটারগণ ভোট প্রদান করিতে পারিবেন৷

৩৩. অসামাজিক বিবাহে গ্রামের কোন বাসিন্দা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষবাএব সহযোগিতা করিলে এবং বাদীর আপত্তির পরে তাহা বিচার বিভাগের নিকট যাথোপযুক্ত প্রমাণিত হইলে, বিবাদিদর নিকট এক কিস্তিতে ২০০০/- (দ;ই) হাজার টাকা জরিমানা আদায় অন্তে পরবর্তী গ্রামবাসীকে ঢোল সহরত অন্তে গ্র্রামবাসীর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী শাস্তি প্রদান করা হইবে৷ আত্মীয় স্বজন বা ভাগভাগী বা পাড়া এই বিচার নিজ দায়িত্বে করিবে বলিয়া দাবী করিলে তাহা গ্রহণযোগ্য হইবে না৷ গ্রামবাসী ইচ্ছা করিলে বিচার বিভাগের উপর দায়িত্ব প্রদান করিতে পারেন৷

৩৪. হুলহুলিযা জামে মসজিদের নামাজের পূর্বে এবং পরে কমুসুল্লীদের মধ্যে ধর্ম সংক্রান্ত কোন বিষয়ে বা অন্য কোন কারণে কোন কিছু অবগত হওয়া বা আপত্তি থাকিলে উক্ত মুসুল্লি নামাজ অন্তে মসজিদ কমিটির প্রাথমিক ভাবে আপত্তির গুরুত্ব অনুধাবন অন্তে অভিযোগের সুরাহা প্রদান করিবেন৷ মসজিদ মত্তয়াল্লী সাহেব প্রয়োজনে গ্রাম উপদেষ্টা বা সামাজিক বা সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সাহায্য নিতে পারেন৷ সকল ক্ষেত্রে সমজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷ প্রকাশ থাকে যে, কমিটির একক সিদ্ধান্তের জন্য মসজিদ বা গ্রামে কোন উত্তেজনা হইলে, তাহার সমাধান মসজিদ কমিটিকে দিতে হইবে৷

৩৫. হুলহুলিয়া বাজারের পূর্বের বরাদ্দকৃত কোন দোকান মালিক ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিলে উক্ত দোকান ঘরের পজিশন বাজার কমিটর নিকট ছাড়িয়া দিতে হইবে৷ বাজার কমিটি তাহাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দোকান মালিকের দোকান ঘরের খরচাদী আনুমানিক হিসাব করিয়া যতদুর সম্ভব মূল্যে পরিশোধ করিবেন৷ যদি কোন দোকান মালিক নিজে উক্ত ঘর কাহারো নিজট নিজ দায়িত্বে বিক্রয় করেন তাবে বাজার কমিটি অবগতির পর পয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া দোকন ঘর কমিটির হেফাজতে নিবেন৷ ব্যবসা সংক্রান্ত কোন দুর্ঘটনা বা মারামারি ঘটলে বাজার কমিটির চেয়ারম্যান সাহেব সঙ্গে সঙ্গে তাহার ফায়সালা বা বিচার করিবেন৷ নৈশ প্রহরী ও আলোর ব্যবস্থা বাজার কমিটির চেয়ারম্যান সাহেবকে গ্রহণ করিতে হইবে৷ নৈশ প্রহরীর মাসিক বেতন বাজারের প্রত্যেক দোকন মালিককে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রদান করিতে হইবে৷ কমিটি প্রয়োজনে গ্রামের সাহায্য নিতে পারেন৷ কমিটির সকল সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে৷

৩৬. হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্কুল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বৎসর কমপক্ষে ৩ (তিন) বার গ্রাম পরিচালনা কমিটিকে অবগত করিতে হইবে৷ প্রত্যেক পরীক্ষার ফলাফল প্রগ্রেস রিপোর্টের মাধ্যমে অভিভাবকদের অবগতি করিতে হইবে৷ বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা প্রধান শিক্ষক সাহেব সমাধান দিবেন৷ পড়াশুনা বা বিদ্যালয়ের বিশৃঙ্খলার জন্য কোন শিক্ষক কোন ছাত্র/ছাত্রীকে শাস্তি প্রদান করেন, তাহা হইলে কোন অভিভাবক শিক্ষককে কোন প্রকার প্রশ্ন করিতে পারিবেন না৷ হেডমাষ্টার বা স্কুল পরিচালনা, কমিটির নিকট আপত্তি পেশ করিতে পারেন৷ স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে৷

৩৭. হুলহুলিয়া গোরস্থানের উন্নয়নের জন্য বৎসরের মৌসুমী ফসল ও অন্যান্য সময় সাহায্য আদায় করিবেন ও গ্রামবাসী সার্বিক সহযোগিতা করিবেন৷ গোরাসস্থান কমিটির গোরাস্থানে বৃহত্তর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে গ্রাম কমিটির সহযোগীতা গ্রহণ করিতে পারেন৷ মৃত মানুষের কবরের স্থান গোরস্থান কমিটি নির্ধারণ করিবে, মৃতের কোন অভিভাবক ইহাতে আপত্তি করিতে পারিবে না৷ সর্ব ক্ষেত্রে কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে৷

৩৮. হুলহুলিয়া ডায়মন্ড ক্লাব যে কোন ইসলামিক ধর্মীয় বিশেষ দিনে, গ্রামের কোন ব্যক্তি মারা গেলে এবং গ্রামীণ সর্বসাধারণের মিটিং এর ধার্য দিনে ক্লাব কর্ত্বৃপক্ষ ক্লাব ঘর বন্ধ ঘোষনা করিবেন৷ শুক্রবার বেলা ১১.০০ ঘটিকার সময় ক্লাব ঘর বন্ধ রাখিতে হইবে৷ ক্লাবের সকল প্রকার সমস্যা ক্লাব পরিচালনা কমিটি সমাধান দিবেন, প্রয়োজনে গ্রামের সাহায্য নিতে পারেন৷ ক্লাব কমিটির সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে৷

৩৯. গ্রামের সকল সংস্থা ছাপানো প্যাড ও প্রয়োজনীয় সীলমোহর ব্যবহার করিবেন৷ সকল প্রকার সাহায্য বা অনুদান রসিদ বই এর মাধ্যমে দাতার স্বাক্ষর সহ গ্রহণ হইবে৷

৪০. গ্রামের ফিত্‍রার টাকা ও পবিত্র কোরবানীর মাংস, হিসাব মোতাবেক দরিদ্র তহবিল প্রধান সাহেব গ্রহণ করিবেন ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে বিতরণ করিবেন৷ কেহ ইহার অন্যথা করিলে, কমিটি প্রধান প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদে আপত্তি দাখিল অন্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

প্রস্তাবে হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ৷

অনুমোদগনঃ হুলহুলিয়া গ্রামবাসী৷

তারিখঃ ১৫-০৭-৯৯ ইং৷